নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাছুম মোস্তফা তাঁর ওপর হওয়া বর্বরোচিত হামলার ঘটনা জাতীয় সংসদে তুলে ধরে নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। রোববার (২৬ এপ্রিল, ২০২৬) বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে তিনি এই আবেগঘন বক্তব্য দেন।
হামলার বিবরণ ও তাঁর দাবিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
হামলার ভয়াবহ বর্ণনা
-
ঘটনার সূত্রপাত: গত ২৪ এপ্রিল (শুক্রবার) নির্বাচনী এলাকা পূর্বধলায় সাংগঠনিক কাজ শেষে ফেরার পথে একটি ফিলিং স্টেশনে যাত্রাবিরতি করেন মাছুম মোস্তফা। মাগরিবের আজানের সময় তিনি তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে স্টেশনের মসজিদে নামাজ পড়তে যান।
-
মসজিদে অবরুদ্ধ: সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, সেই সময় বিএনপির নামধারী একদল লোক তাঁর গাড়ির ওপর হামলা চালায় এবং তাঁর লোকজনকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। হামলাকারীরা মসজিদে ঢুকে তাঁকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। মুসল্লিরা মসজিদের দরজা বন্ধ করে দিলে অস্ত্র দিয়ে দরজা ভাঙার চেষ্টা চালানো হয়।
-
পেশাদার কিলার নিয়োগের দাবি: মাছুম মোস্তফা দাবি করেন, তাঁকে হত্যার জন্য পেশাদার কিলার ভাড়া করা হয়েছিল। তিনি বলেন, "মসজিদের মুসল্লিদের প্রতিরোধের মুখে তারা দরজা ভাঙতে পারেনি বলেই আজ সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি, না হলে আজ হয়তো আমার জন্য শোক প্রস্তাব আনতে হতো।"
নিরাপত্তার দাবি
সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা স্পিকারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিশেষ নিরাপত্তা দাবি করেছেন। তিনি বলেন: ১. ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নিরাপত্তা: নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা চান তিনি। ২. তৃণমূল কর্মীদের নিরাপত্তা: তাঁর এলাকার সংগঠনের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান। ৩. বিচারের দাবি: তাঁর ওপর কেন এই হামলা হলো, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি
গত ২৪ এপ্রিলের সেই ঘটনার পর ইতোমধ্যে স্থানীয় বিএনপির ১২০ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত এই মামলায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।