মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ-এর একটি সাম্প্রতিক মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল, ২০২৬) ইরান যুদ্ধ বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন যে, মার্কিন সামরিক বাহিনীকে প্রতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া উচিত। তবে এই দাবির পাশাপাশি তাঁর যুদ্ধের ধরন এবং ‘সর্বোচ্চ সহিংসতা’ নিয়ে করা মন্তব্যগুলো বৈপরীত্যের সৃষ্টি করেছে।
সংবাদটির মূল বিষয়বস্তু নিচে তুলে ধরা হলো:
হেগসেথের বক্তব্যের প্রধান দিকসমূহ
-
শান্তির জন্য যুদ্ধ: হেগসেথ বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘সঠিকভাবে’ যুদ্ধ করে এবং এর লক্ষ্য থাকে অন্য প্রান্তে শান্তি ফিরিয়ে আনা। তাঁর মতে, শক্তির মাধ্যমেই শান্তি (Peace through Strength) প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
-
নোবেলের দাবি: তিনি যুক্তি দেন যে, মার্কিন সেনাবাহিনী কেবল যুক্তরাষ্ট্রের নয়, বরং সারা বিশ্বের অনেক মানুষের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়, তাই তারা প্রতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য।
-
সর্বোচ্চ সহিংসতা: নোবেলের দাবি করার ঠিক এক মিনিট আগেই হেগসেথ গর্বের সাথে জানান যে, তাঁর নেতৃত্বে মার্কিন বাহিনী এখন শত্রুর বিরুদ্ধে ‘সর্বোচ্চ সহিংসতা’ ঘটাতে সক্ষম। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "আমি চাই আমাদের লোকেরা ঘরে ফিরুক, আর তাদের (শত্রুদের) লোকেরা না ফিরুক।"
-
যুদ্ধবিধির সমালোচনা: তিনি বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু ঠেকাতে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিধি বা ‘রুলস অব এনগেজমেন্ট’-কে ‘বোকামির নিয়ম’ বলে অভিহিত করেন।
প্রেক্ষাপট ও মানবিক সংকট
হেগসেথের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন ইরান ও লেবাননে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় চলছে: ১. ইরানে প্রাণহানি: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানে এ পর্যন্ত ৩,৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১,৭০০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক এবং শত শত শিশু রয়েছে।
২. যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ: আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলেছেন।
৩. বেসামরিক স্থাপনায় হামলা: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং প্রাচীন সভ্যতা ধ্বংস করার হুমকির অভিযোগ রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।