যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো পূরণ হতে পারে এমন একটি সম্ভাব্য চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ইরান শীঘ্রই একটি নতুন প্রস্তাব জমা দিতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, এই সংকট নিরসনে ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে যাচ্ছে দুই দেশ।
সংবাদটির বিস্তারিত আপডেট নিচে দেওয়া হলো:
১. ট্রাম্পের সতর্ক আশাবাদ
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ এপ্রিল, ২০২৬) রয়টার্সকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, "তারা (ইরান) একটি অফার দিচ্ছে এবং আমাদের দেখতে হবে সেটি কী হয়।" যদিও প্রস্তাবের খুঁটিনাটি তিনি এখনো জানেন না, তবে মার্কিন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে রাখা এবং তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হরণ করা। ট্রাম্প আরও স্পষ্ট করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের বর্তমান দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সাথেই আলোচনা চালাচ্ছে।
২. ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধি দল
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, আলোচনার গতি বাড়াতে ট্রাম্প তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ দূতকে পাকিস্তানে পাঠাচ্ছেন:
-
স্টিভ উইটকফ: ট্রাম্পের বিশেষ দূত।
-
জ্যারেড কুশনার: ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা। তাঁরা শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। লেভিট জানান, প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই আলোচনার অগ্রগতির অপেক্ষায় আছেন এবং প্রয়োজনে ভ্যান্স নিজেও পাকিস্তানে যেতে পারেন।
৩. ইসলামাবাদে ইরানি প্রতিনিধি দল
শুক্রবার রাতেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরগচির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে।
-
বৈঠক: আরগচি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সেনাপ্রধান আসিন মুনিরসহ শীর্ষ নেতাদের সাথে বৈঠক করবেন।
-
চীনের ভূমিকা: পাকিস্তান এখানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। যদিও ইরান সরাসরি মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে, তবে পাকিস্তানের মাধ্যমেই তারা তাদের দাবি ও প্রস্তাবগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেবে।