সুষ্ঠু, সুন্দর, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। সেইসাথে, ভোট সংশ্লিষ্ট কারও বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেলে তার পরিণতি খুব খারাপ হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বরিশাল জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ করতে হবে। সবকিছু খোলামেলাভাবে করবেন, কোনো লুকোছাপা নেই। নিরাপত্তার প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন শক্ত অবস্থান নিয়েছে এবং নেবে। আমাদের পছন্দ-অপছন্দ ব্যক্তি নাগরিকের ভোট দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ। আর কোথাও নয়। তিনি বলেন, আমি যখন পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করছি শতভাগ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। আমার কাছে কোনো ছোট দল, বড় দল, হেভি ওয়েট প্রার্থী, লাইট ওয়েট প্রার্থী নেই। সবাইকে সমান ভাবে ট্রিট করতে হবে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, নির্দেশনার পরেও যদি কেউ তার পছন্দ অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠতে না পারেন, পক্ষপাতিত্ব করেছেন তা প্রমাণিত হয় তাহলে পরিণতি খুব খারাপ হবে। নির্বাচন কমিশন খুব কঠিন হবে এ ব্যাপারে। তিনি বলেন, এখন থেকে নির্বাচন পর্যন্ত কোথাও নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা আতিথিয়েতা গ্রহণ করতে পারবেন না।
অপতথ্য-গুজব ঠেকাতে স্থানীয় পর্যায়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দ্রুত সত্যটি মিডিয়ার মাধ্যমে জানিয়ে দিতে হবে। যত নির্বাচন ঘনিয়ে আসবে তত অপতথ্য গুজবের প্রবণতা বাড়বে। তাই সকলকে সচেতন থাকতে হবে।’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উদ্দেশ করে ইসি সানাউল্লাহ আরও বলেন, দৃঢ়ভাবে কাজ করতে হবে। আপনি দৃঢ় থাকলে কেউ সুযোগ নেবে না। তবে শুধু বল প্রয়োগ নয়, মধ্য পন্থা অবলম্বন করতে হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা খাইরুল আলম সুমন। উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার সহ আইনশৃংখলা বাহিনীর অন্যান্য কর্মকর্তারা।