শনিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৫
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মতো অনড় ভারতও, তাহলে কি বাণিজ্যচুক্তি শিগগিরই হচ্ছে না   * অস্ট্রেলিয়ার ৫ শহর মাতাবেন তাহসান   * লতিফ সিদ্দিকী ও ঢাবি অধ্যাপক কার্জনসহ ১৬ জন কারাগারে   * যথাসময়ে নির্বাচন না হলে এই জাতি প্রচণ্ডভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে : ফখরুল   * প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে নারী কোটা বাতিল, বিজ্ঞানে ডিগ্রিধারীদের জন্য ২০ শতাংশ পদ   * পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলার ধ্বংসাবশেষ সরাচ্ছে ইরান   * ফিরেই মেসির জোড়া গোল, ফাইনালে মায়ামি   * দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ ‘কমপ্লিট শাটডাউন’   * আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু   * চারবার ট্রাম্পের ফোন, মোদি একবারও ধরেননি: জার্মান সংবাদমাধ্যমের দাবি  

   সারাবাংলা
সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান থেমে গেছে
  Date : 26-08-2025
Share Button

দেড় দশক ধরে ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান। সমুদ্রসীমা বিজয়ের এক যুগের বেশি সময় পরও বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস আবিষ্কার করা যায়নি।

চারটি বিদেশি কোম্পানি অনুসন্ধানকাজ শুরু করলেও তিনটি ছেড়ে গেছে চুক্তি নির্ধারিত সময়ের আগেই। বর্তমানে থাকা একমাত্র কোম্পানি ইতিমধ্যে অনুসন্ধানকাজ বন্ধ করে দিয়েছে। তারাও চলে যাচ্ছে চুক্তি অনুসারে নির্ধারিত কাজ শেষ না করেই। এতে থেমে গেছে সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ডাকা সবশেষ দরপত্রে ৭টি বিদেশি কোম্পানি দরপত্রের নথি কিনেছিল শুরুতে। দরপত্রপ্রক্রিয়া আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে সময় বাড়ানো হয় তিন মাস। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো বিদেশি কোম্পানি দরপত্র জমা দেয়নি। এখন নতুন করে দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, দরপত্র আহ্বান করে চুক্তির পর কাজ শুরু করতে দেড় থেকে দুই বছর সময় লেগে যায়। তাই সমুদ্রে আবার অনুসন্ধান শুরু হতে দেরি হবে, তা ছাড়া দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দরপত্র আহ্বান করে সুফল নাও মিলতে পারে। তাই নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় দরপত্র পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে।

২০১২ সালে ভারতের সঙ্গে ও ২০১৪ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি হয়। এর ফলে সমুদ্রে বিরাট এলাকা নিয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়। তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য গভীর সমুদ্রে ১৫টি ও অগভীর সমুদ্রে ১১টি মিলে মোট ২৬টি ব্লকে বঙ্গোপসাগরকে ভাগ করেছে পেট্রোবাংলা।

যদিও এর আগেই শুরু হয়ে যায় সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান। উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তি (পিএসসি) ২০০৮-এর আওতায় ২০১০ সালে গভীর সমুদ্রে দুটি ব্লকে কাজ নেয় মার্কিন কোম্পানি কনোকোফিলিপস। তারা দ্বিমাত্রিক জরিপ চালিয়েছিল। কিন্তু গ্যাসের দাম বাড়ানোর দাবি পূরণ না হওয়ায় ২০১৫ সালে তারা কাজ ছেড়ে চলে যায়।

পিএসসি-২০১২-এর অধীনে ২০১৪ সালে অগভীর সমুদ্রের দুটি ব্লকে চুক্তি করে ভারতের ওএনজিসি ভিদেশ। আর দুটি ব্লকে চুক্তি করে অস্ট্রেলিয়ার স্যান্তোস ও সিঙ্গাপুরের ক্রিস এনার্জির সমন্বয়ে গঠিত যৌথ কোম্পানি। এ অঞ্চলে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কথা বলে ২০২০ সালে চলে যায় স্যান্তোস। অন্যদিকে দরপত্র ছাড়াই বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইনের অধীনে ২০১৬ সালে সমুদ্রে দুটি ব্লকে গ্যাস অনুসন্ধানে চুক্তি করে দক্ষিণ কোরিয়ার পস্কো দাইয়ু। তারাও নির্ধারিত সময়ের আগেই চলে গেছে কাজ ছেড়ে।

কয়েক বছর ধরে একমাত্র কোম্পানি হিসেবে কাজ করছিল ওএনজিসি। ২০১৯ সালে সমুদ্রে কাজ শুরু করে তারা। একটি কূপ খনন করে তারা গ্যাসের সন্ধান পায়নি। আরেকটি কূপ খনন না করেই তারা এখন চলে যাচ্ছে। এর আগে কয়েক দফায় তারা মেয়াদ বাড়িয়েছে।

পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, পরিকল্পনার চেয়ে বাড়তি বিনিয়োগ করতে হয়েছে ওএনজিসির। কূপ খননে খরচ আরও বেড়ে গেছে। তাই এখন নতুন করে আর সময় না বাড়িয়ে তারা চলে যাওয়ার কথা পেট্রোবাংলাকে জানিয়েছে। ইতিমধ‍্যে জ্বালানি বিভাগের অনুমোদন নিয়ে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে। নিয়ম অনুসারে চুক্তিটি বাতিল করা হয়েছে। এখন ওএনজিসি নিজেদের কার্যক্রম গুটিয়ে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে সমুদ্রে তেল গ‍্যাস অনুসন্ধানকাজ পুরোপুরি থেমে গেছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কাজ অব্যাহত না রাখার কথা ওএনজিসি জানানোর পর জ্বালানি বিভাগের মতামত নিয়ে ব‍্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আর নতুন করে গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র ডাকতে বিদেশি কোম্পানির মতামত নেওয়া হয়েছে। দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই পিএসসি সংশোধন করে নতুন খসড়া তৈরি করা হচ্ছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসসংকট মেটাতে ২০১৮ সাল থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি শুরু করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। গ্যাস অনুসন্ধানের চেয়ে আমদানির দিকে তাদের ঝোঁক বেশি ছিল। তাই সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ২০১৯ সালে নতুন পিএসসি করা হলেও দরপত্র ডাকা হয়নি। এরপর তিন বছর সময় নিয়ে নতুন পিএসসি-২০২৩ চূড়ান্ত করা হয়। এর মধ্যে সমুদ্রে ১২ হাজার কিলোমিটার লাইন এলাকায় নরওয়ে ও ফ্রান্সের যৌথ কোম্পানি টিজিএস অ্যান্ড স্লামবার্জার পরিচালিত বহুমাত্রিক ভূকম্পন (টুডি) জরিপে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায়। এতে বিদেশি কোম্পানি আগ্রহ দেখাচ্ছিল। ২০২৩ সালের শেষ দিকে গভীর সমুদ্রের ১৫টি ব্লকেই গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহ প্রকাশ করে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি এক্সনমবিল। দরপত্র ছাড়াই চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল তারা। যদিও তাতে শেষ পর্যন্ত রাজি হয়নি বিগত সরকার। গত বছরের মার্চে সরকার দরপত্র আহ্বান করে। দরপত্র জমার সময় ছিল গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এর আগে গত আগস্টে সরকারের পতন হয়। পরে দরপত্র জমার সময় তিন মাস বাড়িয়ে ডিসেম্বর করে অন্তর্বর্তী সরকার।

এই দরপত্রে কোনো কোম্পানি অংশ না নেওয়ার কারণ জানতে একটি কমিটি করে পেট্রোবাংলা। কমিটির সদস্যরা শুরুতে আগ্রহ প্রকাশ করা কয়েকটি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করে তাদের কিছু পর্যবেক্ষণ জানতে পেরেছেন। এসব মতামতের ভিত্তিতে পিএসসি কিছুটা সংশোধন করে খসড়া তৈরি করা হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, সমুদ্রে গ্যাসের মজুত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে অনুসন্ধান জরিপের মাধ্যমে। যদিও অনুসন্ধান কূপ খনন ছাড়া উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুত আবিষ্কার করা যায় না। তবে একই সমুদ্রে গ্যাস পেয়েছে প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত ও মিয়ানমার। বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে পরামর্শ করেই সবশেষ পিএসসি করা হয়েছিল। তাদের মতামতের ভিত্তিতে বেশ কিছু সুবিধা বাড়ানো হয়। গ্যাসের দাম নির্দিষ্ট না রেখে জ্বালানি তেলের দামের ১০ শতাংশ ধরা হয়। তেলের দাম বাড়লে গ্যাসের দাম বাড়বে, আর কমলে তা কমবে। এ ছাড়া মুনাফা ভাগাভাগির পরিবর্তে রাজস্ব আয় ভাগাভাগির সূত্র রাখা হয়। এতসব সুবিধার পরও রাজনৈতিক কারণেই কেউ আসেনি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভূতত্ত্ববিদ বদরুল ইমাম প্রথম আলোকে বলেন, বহুজাতিক কোম্পানি সারা বিশ্বে বিনিয়োগ করে। তারা যখন বঙ্গোপসাগর নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, সরকার উদ্যোগ নেয়নি। যখন দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, তত দিনে তারা হয়তো অন্য দেশে বিনিয়োগে দৃষ্টি দিয়েছে। সমুদ্রে একটা গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলেই বিদেশি কোম্পানির বিনিয়োগ–আগ্রহ বেড়ে যাবে। তাই দ্রুত দরপত্র আহ্বান করে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান শুরু করা উচিত।



  
  সর্বশেষ
শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মতো অনড় ভারতও, তাহলে কি বাণিজ্যচুক্তি শিগগিরই হচ্ছে না
অস্ট্রেলিয়ার ৫ শহর মাতাবেন তাহসান
লতিফ সিদ্দিকী ও ঢাবি অধ্যাপক কার্জনসহ ১৬ জন কারাগারে
যথাসময়ে নির্বাচন না হলে এই জাতি প্রচণ্ডভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে : ফখরুল

প্রধান সম্পাদক: মতিউর রহমান , সম্পাদক: জাকির হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক এসএম আবুল হাসান। সম্পাদক কর্তৃক ২ আরকে মিশন রোড, ঢাকা ১২০৩ থেকে প্রকাশিত এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২০১৯ ফকিরাপুল , ঢাকা ১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: জামান টাওয়ার (৪র্থ তলা) ৩৭/২ পুরাণা পল্টন, ঢাকা ১০০০
ফোন: ০১৫৫৮০১১২৭৫, ০১৭১১১৪৫৮৯৮, ০১৭২৭২০৮১৩৮। ই-মেইল: bortomandin@gmail.com, ওয়েবসাইট: bortomandin.com