ক্রীড়া প্রতিবেদক
সিলেট টেস্টে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে অবিশ্বাস্য এক ইনিংস খেললেন তাওহিদ হৃদয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকেই রূপ দিলেন ডাবল সেঞ্চুরিতে।
বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে অভিষেক সেঞ্চুরিকে দ্বিশতকে পরিণত করার অনন্য কীর্তি গড়লেন তিনি।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন হৃদয়। বাংলাদেশের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তি গড়লেন তিনি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে করা ৩৫৬ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে চরম বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। একপর্যায়ে মাত্র ১৮৪ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় ছিল স্বাগতিকরা। সেখান থেকেই একাই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন হৃদয়।
দিনের প্রথম সেশনে দ্রুত ফিরে যান মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ। ক্যারিবীয় স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যানের ঘূর্ণিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ।
তবে অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন হৃদয়। মধ্যাহ্নবিরতির ঠিক আগে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। এরপর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তিনি। দৃষ্টিনন্দন কাট, ফ্লিক ও একের পর এক ছক্কায় ক্যারিবীয় বোলারদের ওপর পাল্টা চাপ তৈরি করেন।
অষ্টম উইকেটে তাইজুল ইসলামকে নিয়ে গড়েন ১১৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। হৃদয়ের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের বিপরীতে ধৈর্য ধরে তাকে সঙ্গ দেন তাইজুল। ৫৬ বল মোকাবিলা করে ২২ রান করেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ওয়ারিক্যানের বলে স্টাম্পড হয়ে ফেরেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। এই জুটির সুবাদে বড় বিপর্যয় কাটিয়ে ম্যাচে ফেরার পথ খুঁজে পায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সেশন শেষে ৮ উইকেটে ৩১৮ রান তোলে স্বাগতিকরা। তখন হৃদয় ১৯০ রানে অপরাজিত ছিলেন এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস থেকে বাংলাদেশ পিছিয়ে ছিল মাত্র ৩৮ রানে।
এরপর তাসকিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে ডাবল সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যান হৃদয়। শেষ পর্যন্ত ২০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস লেখেন তিনি। এই ইনিংসে একাধিক রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন হৃদয়। বাংলাদেশের হয়ে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিতে সর্বোচ্চ রানের আগের রেকর্ড ছিল মুমিনুল হকের ১৮১। সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছান হৃদয়। পাশাপাশি সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টেস্টের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডও নিজের করে নেন তিনি।
এর আগে এই মাঠে সর্বোচ্চ ১৭১ রান করেছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়, গত বছর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের প্রথম ইনিংসে ৩৫৬ রান সংগ্রহ করে। ক্যারিবীয়দের হয়ে আমির জাঙ্গু ১৩৩, কেভিন উইকহ্যাম ৬১ ও জাস্টিন গ্রিভস ৫১ রান করেন। বাংলাদেশের পক্ষে ৯০ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন পেসার হাসান মাহমুদ।
সিরিজের প্রথম টেস্টে হেরে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের জন্য হৃদয়ের এই ডাবল সেঞ্চুরি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দলের কঠিন মুহূর্তে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের দুর্দান্ত প্রদর্শনীতে সিলেট টেস্টকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন তিনি।
বর্তমানদিন/ফআ