সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   জাতীয়
আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস: শ্রদ্ধা, সংকট ও প্রত্যাশা
  Date : 05-10-2026
Share Button

নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ ৫ অক্টোবর, বিশ্ব শিক্ষক দিবস। ১৯৯৪ সাল থেকে ইউনেস্কোর উদ্যোগে প্রতিবছর এই দিনে বিশ্বব্যাপী শিক্ষকদের অবদানকে স্মরণ করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে - শিক্ষায় নতুন সামাজিক অঙ্গীকারের জন্য শিক্ষকদের ক্ষমতায়ন।

১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর ইউনেস্কো ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা শিক্ষকদের অধিকার ও মর্যাদা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সনদে স্বাক্ষর করে। সেই দিনটিকে স্মরণ করে ১৯৯৪ সাল থেকে বিশ্বের শতাধিক দেশে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশেও সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নানা আয়োজনে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা পৃথক বাণী দিয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক সংগঠন ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও র‍্যালির আয়োজন করেছে।

বিশ্ব শিক্ষক দিবস এলেই শিক্ষকদের মর্যাদা ও সংকটের বিষয়টি সামনে আসে। বাংলাদেশে প্রায় ৪৫ লাখ শিক্ষক বিভিন্ন স্তরে শিক্ষা দান করছেন। প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত এই বিশাল শিক্ষক সমাজ জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু বাস্তব চিত্রে শিক্ষকদের নানা সংকট রয়েছে।

প্রথম সংকট হলো বেতন বৈষম্য। সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে বেতনে বড় পার্থক্য রয়েছে। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কম। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সময় মতো বেতন হয় না। ইবতেদায়ি, কিন্ডারগার্টেন ও অনার্স মাস্টার্স কলেজের অনেক শিক্ষক এখনো এমপিওভুক্ত নন। দ্বিতীয় সংকট হলো সামাজিক মর্যাদা। এক সময় শিক্ষকতা ছিল সবচেয়ে সম্মানিত পেশা। এখন সেই মর্যাদা কমেছে। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকরা লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন। সামাজিকভাবে শিক্ষকদের আগের মতো সম্মান করা হচ্ছে না। তৃতীয় সংকট হলো প্রশিক্ষণের অভাব। নতুন কারিকুলাম, প্রযুক্তি ও পরিবর্তিত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন না অনেক শিক্ষক। বিশেষ করে গ্রাম পর্যায়ের শিক্ষকরা প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণে পিছিয়ে রয়েছেন। চতুর্থ সংকট হলো শিক্ষক সংকট। অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক কম। একটি পদ খালি থাকলে মাসের পর মাস নিয়োগ হচ্ছে না। ফলে একজন শিক্ষককে অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার মান ব্যাহত হচ্ছে।

এই অবস্থায় শিক্ষকদের প্রত্যাশা, শিক্ষকতা পেশাকে আরও আকর্ষণীয় করা হোক। বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো, সময় মতো পদোন্নতি, অবসরের পর পেনশন সুবিধা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষার মান উন্নয়নের প্রধান শর্ত হলো শিক্ষকের মান উন্নয়ন। শিক্ষক ভালো থাকলে শিক্ষা ভালো হবে। শিক্ষককে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ও সামাজিকভাবে সম্মানিত না করলে মানসম্মত শিক্ষা সম্ভব নয়।

বিশ্ব শিক্ষক দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়। এই দিনটি শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি তাদের সমস্যা সমাধানে অঙ্গীকার করার দিন। একজন শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না, তিনি একজন মানুষ গড়ার কারিগর। তার হাত দিয়েই তৈরি হয় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

তাই আজকের দিনে প্রত্যাশা একটাই, শিক্ষকরা যেন সম্মান নিয়ে, নিরাপদে ও মর্যাদার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন। রাষ্ট্র ও সমাজকে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।



  
  সর্বশেষ
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য
সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারে ক্র্যাবের আল্টিমেটাম
প্রমত্তা পদ্মাপাড়ে গণমাধ্যমকর্মীদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত
৬ লাখ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ

প্রধান সম্পাদক: মতিউর রহমান , সম্পাদক: জাকির হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক এসএম আবুল হাসান। সম্পাদক কর্তৃক ২ আরকে মিশন রোড, ঢাকা ১২০৩ থেকে প্রকাশিত এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২০১৯ ফকিরাপুল , ঢাকা ১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: জামান টাওয়ার (৪র্থ তলা) ৩৭/২ পুরাণা পল্টন, ঢাকা ১০০০
ফোন: ০১৫৫৮০১১২৭৫, ০১৭১১১৪৫৮৯৮, ০১৭২৭২০৮১৩৮। ই-মেইল: bortomandin@gmail.com, ওয়েবসাইট: bortomandin.com