ইরানের ওপর চলমান অর্থনৈতিক ও নৌ-অবরোধ কঠোরভাবে কার্যকর করার লক্ষ্যে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে আরও একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল, ২০২৬) পেন্টাগনের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
অভিযানের বিস্তারিত
-
জাহাজের পরিচয়: জব্দকৃত জাহাজটির নাম ‘এম/টি টিফানি’। পেন্টাগন এটিকে একটি ‘রাষ্ট্রহীন’ (Stateless) এবং পূর্ব থেকেই নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
-
অভিযান প্রক্রিয়া: গত রাতে ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের আওতাধীন আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। পেন্টাগনের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, হেলিকপ্টার থেকে মার্কিন সেনারা জাহাজটিতে অবতরণ করছে। কোনো ধরনের রক্তপাত বা সংঘর্ষ ছাড়াই তল্লাশি ও জব্দ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
-
ইরান সংযোগ: বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, জব্দ করা এই জাহাজটি ইরানের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও কৌশলগত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট।
ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব
১. হরমুজ প্রণালির বাইরে কঠোরতা: সাধারণত ইরান সংশ্লিষ্ট জাহাজ পারস্য উপসাগর বা ওমান উপসাগরে জব্দ করা হয়। তবে এবার প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় (ইন্দো-প্যাসিফিক) অভিযান চালিয়ে পেন্টাগন এই বার্তা দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক জলসীমার কোথাও নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজ নিরাপদ নয়।
২. ট্রাম্পের অনড় অবস্থান: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের সাথে চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এই নৌ-অবরোধ ও জাহাজ জব্দের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
৩. পূর্ববর্তী ঘটনা: এর মাত্র দুদিন আগে গত ১৯ এপ্রিল ওমান উপসাগরে ইরানের পতাকাবাহী একটি কনটেইনার জাহাজ জব্দ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেই অভিযানে সতর্কতা উপেক্ষা করায় জাহাজটির ইঞ্জিনরুম লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে সেটিকে অচল করে দেওয়া হয়েছিল।