শনিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   বিশেষ সংবাদ
রাজবাড়ীর গ্রামীণ মেলা: ঐতিহ্য, উৎসব ও লোকজ সংস্কৃতির প্রাণ
  Date : 06-04-2026
Share Button

নেহাল আহমেদ

বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হলো মেলা, আর রাজবাড়ী জেলা এই ঐতিহ্যের এক সমৃদ্ধ ধারক। বছরের বিভিন্ন সময়ে জেলার গ্রামেগঞ্জে বসা এসব মেলা শুধু বাণিজ্যিক আয়োজন নয় এগুলো মানুষের মিলন, আনন্দ এবং সংস্কৃতির এক অনন্য প্রকাশ। এক সময় লক্ষীকোল রাজার বাড়ী বৈশাখ মাস জুড়ে মেলা বসত এখন তা হারিয়ে গেছে। এছাড়া রাজবাড়ীর সবচেয়ে পরিচিত মেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে নলিয়ার মেলা। শত বছরের বেশি পুরনো এই মেলাটি বালিয়াকান্দির নলিয়া গ্রামে ফাল্গুন মাসে অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রায় ১০ দিনব্যাপী চলে। ধর্মীয় আচার, লোকবিশ্বাস এবং উৎসবের আমেজ এখানে একত্রে মিশে যায়। অন্যদিকে নচির মেলা রাজবাড়ী সদরের একটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। এটি সাধারণত চৈত্র মাসে অনুষ্ঠিত হয় এবং স্বল্প সময়ের হলেও স্থানীয় মানুষের কাছে এর গুরুত্ব অপরিসীম। এছাড়া পাঁচুরিয়ার নসির মেলা-ও জেলার একটি উল্লেখযোগ্য লোকজ মেলা, যেখানে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনের চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

লোকজ সংস্কৃতির রঙিন প্রকাশ

 এই মেলাগুলোতে গ্রামীণ জীবনের বৈচিত্র্যময় রূপ দেখা যায়। মাটির তৈরি সামগ্রী, বাঁশের জিনিসপত্র, হাতে বানানো খেলনা, এবং নানা ধরনের পিঠা-মিষ্টি—সব মিলিয়ে এক জীবন্ত লোকজ বাজার তৈরি হয়। পাশাপাশি নাগরদোলা, লোকসংগীত, বাউল গান ও বিভি ন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন মেলাকে করে তোলে প্রাণবন্ত। রাজবাড়ীর অধিকাংশ মেলা বসে ফাল্গুন-চৈত্র মাসে, যখন প্রকৃতি নিজেই উৎসবের আবহ তৈরি করে। তাছাড়া পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত লোকজ মেলাগুলো নতুন বছরের আনন্দকে আরও বর্ণিল করে তোলে। ঈদ ও পূজার সময়ও জেলার বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় মেলা বসে। গ্রামীণ মেলাগুলো স্থানীয় অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কারিগররা এখানে তাদের পণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পায়।  একইসঙ্গে এসব মেলা সামাজিক বন্ধনকে দৃঢ় করে এবং মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ায়।মেলার ঐতিহ্য গ্রামীণ মেলার শেকড় অনেক গভীরে প্রোথিত। ধর্মীয় আচার, মৌসুমি উৎসব কিংবা কোনো সাধক-ব্যক্তিত্বের স্মরণে এসব মেলার সূচনা হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে এগুলো হয়ে উঠেছে গ্রামের মানুষের আনন্দ, কেনাবেচা ও মিলনের প্রধান ক্ষেত্র। এখানে ধনী-গরিব, ছোট-বড় সবাই এক হয়ে যায়—এটাই মেলা ছোট-বড় সবাই এক হয়ে যায়—এটাই মেলার আসল সৌন্দর্য।এ ছাড়া কিছু গ্রামীন বিনোদন ছিলো এখন সে গুলো দেখতে পাওয়া যায় না।

পুতুল নাচ: গল্প বলা জীবন্ত শিল্প

পুতুল নাচ গ্রামীণ মেলার অন্যতম আকর্ষণ। কাঠ বা কাপড়ের তৈরি পুতুলকে সুতো দিয়ে নাচিয়ে শিল্পীরা নানা গল্প তুলে ধরেন রাজা-রানী, লোককাহিনি কিংবা সামাজিক বার্তা। শিশুদের জন্য এটি শুধু বিনোদন নয়, বরং কল্পনার এক জগতে প্রবেশের দরজা।

চরকি: ঘুরে ঘুরে আনন্দ

চরকি বা ঘূর্ণায়মান দোলনা শিশুদের সবচেয়ে প্রিয় বিনোদনগুলোর একটি। ছোট্ট কাঠের বা লোহার কাঠামোতে বসে ঘুরতে ঘুরতে তারা পায় অদ্ভুত এক আনন্দ—সরল কিন্তু হৃদয়ছোঁয়া।

নাগর দোলা: আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন

নাগর দোলা মেলার সবচেয়ে চোখে পড়া আয়োজন। বড় চাকার মতো এই দোলনায় চড়ে মানুষ উপরে উঠে পুরো মেলার দৃশ্য দেখতে পারে। শিশু থেকে বড়—সবাই এই দোলায় চড়ে এক ধরনের রোমাঞ্চ অনুভব করে।

বাইস্কোপ: চলমান ছবির জাদু

একসময় গ্রামীণ মানুষের জন্য সিনেমার একমাত্র মাধ্যম ছিল বাইস্কোপ। ছোট একটি বাক্সে চোখ লাগিয়ে দেখা যেত নানা ছবি ও দৃশ্য—গল্প, ইতিহাস বা শহরের ঝলক। এই সরল প্রযুক্তিই মানুষকে দিত নতুন জগত দেখার সুযোগ।

মাটির খেলনা: হাতে গড়া শিল্প

মেলায় পাওয়া মাটির খেলনা গ্রামীণ শিল্পের এক অনন্য নিদর্শন। ঘোড়া, হাতি, পাখি, পুতুল—সবই তৈরি হয় দক্ষ কারিগরের হাতে। এগুলো শুধু খেলনা নয়, বরং ঐতিহ্য ও নান্দনিকতার প্রতীক।

গ্রামীণ খাবার: স্বাদের উৎসব মেলা মানেই নানা রকম সুস্বাদু খাবার। পিঠা (চিতই, ভাপা, পাটিসাপটা) জিলাপি, বাতাসা, নাড়ু মুড়ি-মুড়কি, খাজা এই খাবারগুলো শুধু স্বাদই দেয় না, বরং গ্রামীণ জীবনের সরলতা ও আন্তরিকতার অনুভূতি জাগায়।

গ্রামীণ মেলা আমাদের সংস্কৃতির এক অমূল্য অংশ। পুতুল নাচ, চরকি, নাগর দোলা, বাইস্কোপ, মাটির খেলনা আর ঐতিহ্যবাহী খাবার—সব মিলিয়ে এটি এক সম্পূর্ণ আনন্দের জগৎ। আধুনিকতার ভিড়ে এসব আয়োজন কিছুটা কমে গেলেও, এগুলো এখনও আমাদের শিকড়ের গল্প বলে যায়। দেশের  গ্রামীণ মেলাগুলো শুধু বিনোদনের উৎস নয়, বরং আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। আধুনিকতার প্রবাহের মাঝেও এই মেলাগুলো আমাদের শিকড়ের সাথে সংযুক্ত রাখে এবং আমাদের পরিচয়কে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।

 

 



  
  সর্বশেষ
আমরা আছি সংসদে, মামুনুল-পাটওয়ারীরা আছেন রাজপথে: নাহিদ ইসলাম
গণভোটের রায়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট খারিজ হয়ে গেছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার
উপায় না পেয়েই তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে: পরিবহনমন্ত্রী
দেশের অর্থনীতি মজবুত করতে প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

প্রধান সম্পাদক: মতিউর রহমান , সম্পাদক: জাকির হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক এসএম আবুল হাসান। সম্পাদক কর্তৃক ২ আরকে মিশন রোড, ঢাকা ১২০৩ থেকে প্রকাশিত এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২০১৯ ফকিরাপুল , ঢাকা ১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: জামান টাওয়ার (৪র্থ তলা) ৩৭/২ পুরাণা পল্টন, ঢাকা ১০০০
ফোন: ০১৫৫৮০১১২৭৫, ০১৭১১১৪৫৮৯৮, ০১৭২৭২০৮১৩৮। ই-মেইল: bortomandin@gmail.com, ওয়েবসাইট: bortomandin.com