লালমনিরহাট প্রতিনিধি
নিয়মিত মাদক মামলার নিষ্পত্তি শেষে আদালত ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে ধ্বংসের পর তা কৌশলে সংগ্রহ করে পাচারের সময় হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। এসময় মাদক বহনকারীরা পালিয়ে গেলেও তাদের ফেলে যাওয়া রিকশা ও মাদকভর্তি ব্যাগ জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় লালমনিরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে একটি রিকশা থেকে এসব মাদক জব্দ করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিয়ম অনুযায়ী আদালতের নির্দেশে প্রশাসনের উপস্থিতিতে মামলার আলামত হিসেবে থাকা জব্দকৃত মাদকের মধ্যে তরল মাদক ড্রেনে এবং গাঁজাসহ অন্যান্য মাদক পুড়িয়ে ফেলা হয়। কিন্তু ড্রেনে ফেলে দেওয়া তরল জাতীয় মাদক কৌশলে সংগ্রহ করে একটি চক্র। পরে তা পাচার হয়।
সূত্র জানায়, বুধবার বিকেলেও মাদক ধ্বংস করা হয়। ড্রেনে ফেলা তরল মাদক সংগ্রহ করে ওই চক্রটি জারকিন, বোতল ও মাটির হাঁড়িতে ভরে এসব মাদক সরিয়ে ফেলছিল। রিকশাযোগে পাচারকালে এসপি অফিসের সামনে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে তারা রিকশাটি আটক করে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে রিকশায় থাকা দুই যুবক কৌশলে পালিয়ে যান। পালানোর সময় তারা স্থানীয়দের জানিয়ে যায়, এই মাদকগুলো ‘রব্বানী’ নামের এক ব্যক্তির।
এ বিষয়ে ভাড়ায় চালিত রিকশার চালক আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি ডিসি অফিসের সামনে ফাঁকা রিকশা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন ওই দুই যুবক এসে আমাকে বত্রিশ হাজারী এলাকায় যাওয়ার কথা বলে রিকশায় ওঠে। তাদের ব্যাগে যে মাদক ছিল, তা আমি জানতাম না। পথের মধ্যে লোকজন আমাদের আটকালে তারা রিকশায় মাল রেখেই দৌড়ে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা বলে গেছে, এগুলো রব্বানীর মাল।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বত্রিশ হাজারীর বাসিন্দা গোলাম রব্বানীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে বলেন, কে কোথায় মাদক নিয়ে যাচ্ছে, তাতে আমার কী। যারা ঘটনাস্থলে ছিল, তাদের ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
ধ্বংস করা মাদক পাচার সংক্রান্ত বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পুলিশ পরিদর্শক আবুল হাসনাত খান বলেন, মাদকগুলো আমরা উদ্ধার করতে পেরেছি। যেসব সাধারণ মানুষ এগুলো ধরেছে, তাদের আমরা ধন্যবাদ জানাই। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা এগুলো জব্দ করেছি এবং এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে। এই মাদক পাচারের সঙ্গে যেই জড়িত থাক না কেন তার বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আদালত চত্বরে রব্বানীর সন্দেহজনক ঘোরাঘুরি ও আদালতের এক সাব-ইন্সপেক্টরের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে কোর্ট ইন্সপেক্টর জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে তাকেও এই মামলায় আসামি করা হবে।
বর্তমানদিন/ফআ