শুক্রবার, অক্টোবর ২, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   অপরাধ-দূর্নীতি
ময়মনসিংহ ভূমি অফিসে বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য; জালিয়তির অভিযোগ আজাদের বিরুদ্ধে
  Date : 16-08-2026
Share Button

দিলীপ গোয়ালা, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহের সদর উপজেলা ভূমি অফিস ও চর ঈশ্বরদীয়া ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় একটি দালাল চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ সেবাগ্রহীতারা। অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের এ প্রথা স্থানীয়ভাবে ‘এলার’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা না দিলে ফাইল তো বটেই, নামজারি (খারিজ) সংক্রান্ত কোনো কাজই এগোয় না। প্রতি নথির জন্য ন্যূনতম ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়, যার পোশাকি নাম ‘এলার’। বার্ষিক নথি প্রক্রিয়াকরণের আনুমানিক সংখ্যা হিসাব করলে এর মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, অফিসে ঢোকার পথেই সেবাগ্রহীতাদের মুখোমুখি হতে হয় মধ্যস্বত্বভোগী ও বহিরাগত দালালদের। কার্যালয়ের সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা সরাসরি সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা না বলে এসব দালালদের মাধ্যমেই কাজ লেনদেন করতে উৎসাহিত করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, দালালের মাধ্যম ছাড়া সরকারি অফিসে বসে সেবা পাওয়ার বা অন্তত বসার সুযোগও মেলে না। নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ না করলে ফাইল মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়।

অনিয়মের চিত্র কেবল সদর অফিসেই সীমাবদ্ধ নয়। চর ঈশ্বরদীয়া ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের সাবেক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধেও উঠেছে গুরুতর জালিয়তির অভিযোগ। অনুসন্ধানে জানা যায়, তার নেতৃত্বে নথিপত্রে অস্তিত্বহীন বা হোল্ডিংয়ে যায়গা না থাকলেও অদৃশ্য ক্ষমতা, দক্ষতা এবং বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে খতিয়ান অনুমোদন, মিউটেশন ও বিবিধ জমাবন্দির (ডিসিআর) কেটে এর মাধ্যমে খাজনা আদায়ের মতো ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে সরকারি মূল ভলিউম ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার কথা কর্মচারীদের হলেও তা রয়েছে বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণে। এসব কারণে সাধারণ মানুষ জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতা ও ঘুষ দেওয়ার ফাঁদে পড়ছেন।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সৈয়দা তামান্না হোরায়রার কাছে জালিয়তির ডকুমেন্ট পাঠিয়ে মতামত জানতে একাধিকবার ফোন ও বার্তা পাঠানো হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো মতামত জানাননি। একই ভাবে এ বিষয়ে আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য নিতে তাঁর ফোনে একাধিকবার ম্যাসেজ দিয়ে, কল করা হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

ভূমি সেবায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং এ অপতৎপরতা, জালিয়তি বন্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন ও ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।



  
  সর্বশেষ
সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারে ক্র্যাবের আল্টিমেটাম
প্রমত্তা পদ্মাপাড়ে গণমাধ্যমকর্মীদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত
৬ লাখ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ
রাজবাড়ীতে নারী উদ্যোক্তাকে লাঞ্ছিত করায় ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৩

প্রধান সম্পাদক: মতিউর রহমান , সম্পাদক: জাকির হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক এসএম আবুল হাসান। সম্পাদক কর্তৃক ২ আরকে মিশন রোড, ঢাকা ১২০৩ থেকে প্রকাশিত এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২০১৯ ফকিরাপুল , ঢাকা ১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: জামান টাওয়ার (৪র্থ তলা) ৩৭/২ পুরাণা পল্টন, ঢাকা ১০০০
ফোন: ০১৫৫৮০১১২৭৫, ০১৭১১১৪৫৮৯৮, ০১৭২৭২০৮১৩৮। ই-মেইল: bortomandin@gmail.com, ওয়েবসাইট: bortomandin.com