দিলীপ গোয়ালা, প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের সদর উপজেলা ভূমি অফিস ও চর ঈশ্বরদীয়া ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় একটি দালাল চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ সেবাগ্রহীতারা। অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের এ প্রথা স্থানীয়ভাবে ‘এলার’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা না দিলে ফাইল তো বটেই, নামজারি (খারিজ) সংক্রান্ত কোনো কাজই এগোয় না। প্রতি নথির জন্য ন্যূনতম ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়, যার পোশাকি নাম ‘এলার’। বার্ষিক নথি প্রক্রিয়াকরণের আনুমানিক সংখ্যা হিসাব করলে এর মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, অফিসে ঢোকার পথেই সেবাগ্রহীতাদের মুখোমুখি হতে হয় মধ্যস্বত্বভোগী ও বহিরাগত দালালদের। কার্যালয়ের সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা সরাসরি সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা না বলে এসব দালালদের মাধ্যমেই কাজ লেনদেন করতে উৎসাহিত করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, দালালের মাধ্যম ছাড়া সরকারি অফিসে বসে সেবা পাওয়ার বা অন্তত বসার সুযোগও মেলে না। নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ না করলে ফাইল মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়।
অনিয়মের চিত্র কেবল সদর অফিসেই সীমাবদ্ধ নয়। চর ঈশ্বরদীয়া ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের সাবেক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধেও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। অনুসন্ধানে জানা যায়, নথিপত্রে অস্তিত্বহীন বা ভুয়া হোল্ডিংয়ের বিপরীতেও মোটা অঙ্কের বিনিময়ে খতিয়ান অনুমোদন ও বিবিধ জমাবন্দির (ডিসিআর) মাধ্যমে খাজনা আদায়ের মতো ঘটনা ঘটেছে। সরকারি মূল ভলিউম ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার কথা কর্মচারীদের হলেও তা রয়েছে বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণে।
এসব অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতায় পড়ছেন। এ বিষয়ে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সৈয়দা তামান্না হোরায়রাকে মতামত জানতে একাধিকবার ফোন ও বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর কোনো সাড়া মেলেনি। একই ভাবে এ বিষয়ে আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য নিতে তাঁর ফোনে একাধিকবার ম্যাসেজ দিয়ে, ফোন করা হলেও তিনি মতামত দেননি।
ভূমি সেবায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং এ অপতৎপরতা বন্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন ও ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।