দীর্ঘ ৯ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে পেশোয়ার জালমি পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ২০২৬ আসরের শিরোপা জয় করেছে। ২০১৭ সালের পর এটি তাদের দ্বিতীয় শিরোপা। এই ঐতিহাসিক জয়ে বল হাতে গতির ঝড় তুলে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট প্রেমীদের নজর কেড়েছেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানা।
নিচে ফাইনাল ম্যাচ এবং নাহিদ রানার অসাধারণ পারফরম্যান্সের মূল দিকগুলো তুলে ধরা হলো:
ফাইনাল ম্যাচের সংক্ষিপ্ত চিত্র
ফাইনালে টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন পেশোয়ার অধিনায়ক বাবর আজম। তার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে হায়দরাবাদ মাত্র ১২৯ রানে গুটিয়ে যায়।
-
বোলিং আধিপত্য: অস্ট্রেলিয়ার অ্যারন হার্ডি ২৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন।
-
নাহিদ রানার শিকার: নাহিদ রানা ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান খরচ করে ২ উইকেট নেন। সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল ভয়ংকর ব্যাটার গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে প্রথম বলেই সাজঘরে ফেরানো।
-
ব্যাটিং ও জয়: ১৩০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে বাবর আজমের গোল্ডেন ডাক (প্রথম বলেই আউট) সত্ত্বেও অ্যারন হার্ডির (৫৬*) এবং আব্দুল সামাদের (৪৮) ব্যাটে ভর করে জয় নিশ্চিত করে পেশোয়ার।
নাহিদ রানা: পিএসএলের নতুন গতিদানব
এবারের আসরে নাহিদ রানা কেবল উইকেটই পাননি, বরং তার বলের গতি দিয়ে প্রতিপক্ষকে তটস্থ করে রেখেছেন।
-
গতি ও নিয়ন্ত্রণ: করাচির উইকেটে তিনি সর্বোচ্চ ১৫১ কিমি গতিতে বল করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন।
-
পরিসংখ্যান: এই আসরে ৫ ম্যাচে মাত্র ১০.৮৯ গড়ে তিনি ৯টি উইকেট শিকার করেছেন। তার ইকোনমি রেট ছিল ঈর্ষণীয় (৫.৪৪)।
-
রানার প্রতিক্রিয়া: ম্যাচ শেষে রানা বলেন, "গত বছর সুযোগ না পেলেও এবার সুযোগ পেয়ে নিজের সেরাটা দিতে পেরেছি। দলের জয়ে অবদান রাখাটা আমার জন্য বড় আনন্দের।"
সতীর্থদের প্রশংসা ও ভবিষ্যৎ লড়াই
ফাইনালের ম্যাচসেরা অ্যারন হার্ডি নাহিদ রানার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, "নাহিদের মতো গতির বোলারকে বিশ্বের যেকোনো টুর্নামেন্ট স্বাগত জানাবে। সে মাত্র তিন দিন আগে যোগ দিয়েই যে গতিতে বল করেছে, তা অবিশ্বাস্য।"
একটি মজার তথ্য: পিএসএল শেষ করেই নাহিদ রানাকে যোগ দিতে হবে বাংলাদেশ জাতীয় দলের টেস্ট স্কোয়াডে। মজার ছলে হার্ডি বলেন, "সামনের সপ্তাহে ওর টেস্ট ম্যাচ আছে। পেশোয়ারের হয়ে খেললেও বাবর আজম নিশ্চয়ই প্রতিপক্ষ হিসেবে রানাকে মোকাবিলা করার জন্য খুব একটা মুখিয়ে নেই!"
পেশোয়ার জালমির শিরোপা খরা অবসান
২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর পেশোয়ার আরও তিনবার ফাইনালে উঠলেও ট্রফি জিততে পারেনি। ২০২৬ সালে এসে বাবর আজমের নেতৃত্বে সেই আক্ষেপ ঘুচলো। এটি অধিনায়ক হিসেবে বাবর আজমেরও প্রথম পিএসএল শিরোপা।