বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাজনীতিকে তিনি কখনো অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেননি, বরং পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে রাজনীতির খরচ জুগিয়েছেন। নিজের সততা ও ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি রাজনীতি করে ব্যবসা করি না। বাপের জমিজমা, বাড়িঘর বিক্রি করে রাজনীতি করছি। এটা আপনারা ভালো করেই জানেন। পৈতৃক জমির অর্ধেক ইতোমধ্যে শেষ, এমনকি বাড়ির সামনের জমিটাও বিক্রি করতে হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের চন্ডিপুর স্কুল মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকালে সালন্দর ইউনিয়নের ১৪ হাত কালিতলা বাজার এলাকায় এক পথসভায় বক্তব্য রাখেন মির্জা ফখরুল। সেখানে স্থানীয় নারীরা তাকে টাকার মালা পরিয়ে বরণ করে নিলে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
স্মৃতিচারণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের সময় এলাকার মা-বোনেরা মুরগির ডিম ও মুরগি বিক্রি করে আমাকে নির্বাচনের টাকা দিয়েছিলেন। কারণ আমার টাকা নেই। ২০০৬ সালে একটি গাড়ি কিনেছি, সেটি এখন পর্যন্ত পরিবর্তন করতে পারিনি। অন্যের দেওয়া গাড়িতে করে আজ নির্বাচনি প্রচার চালাচ্ছি।
নির্বাচন ও সততা নির্বাচনি ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফখরুল বলেন, নির্বাচন থেকে এখন সততা হারিয়ে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি সেই সততা ধরে রাখতে। আপনাদের ভোট বড় আমানত, সেটা আমাকে দেবেন। কারণ আমি আপনাদের চেনা লোক।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ১৫ বছর ধরে আমরা কথা বলতে পারিনি। আমাদের ওপর শুধু মামলা আর হামলা চালানো হয়েছে। সেই দুঃসময় পার করে আজ আমরা আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি। উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার করে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা ভিক্ষা বা দয়ায় বাঁচতে চাই না, কাজ করে বাঁচতে চাই। শুধু বিএ-এমএ পাস করলে হবে না, কারিগরি প্রশিক্ষণ নিতে হবে যাতে দেশের বাইরে গিয়েও ভালো আয় করা সম্ভব হয়।
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জয়ী হলে এলাকায় সবজি সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ এবং নারীদের জন্য কুটির শিল্পের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
শেষ নির্বাচন ঘোষণা দেওয়া মির্জা ফখরুল ব্যক্তিগত জীবনের সাদামাটা চিত্র তুলে ধরে বলেন, আমি নিজে কখনো দুর্নীতির আশ্রয় নিইনি। আমার স্ত্রী-সন্তানরা অনেক কষ্ট করে সংসার চালিয়েছে। আমি যে গাড়িটি চড়ি সেটি ২০ বছরের পুরোনো।
স্থানীয়দের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও আমার জন্মস্থান। আমার বাবা, আমি এবং আমার ছোট ভাই পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলাম। কিন্তু গত সরকারের আমলে কোনো বরাদ্দ না পাওয়ায় আমরা কাজ করতে পারিনি। এটাই আমার শেষ নির্বাচন, আপনারা আমাকে একবার সুযোগ করে দেবেন।
এদিন চন্ডিপুর ও কালিতলা ছাড়াও গড়েয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন তিনি। এ সময় জেলা ও উপজেলা বিএনপির অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।