যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় লোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির পুলিশ। হিলসবোরো কাউন্টির শেরিফ চ্যাড ক্রনিস্টার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বৃষ্টির মরদেহটি একটি কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ঝোপের ভেতর ফেলে রাখা হয়েছিল।
তদন্ত ও মরদেহ উদ্ধারের বিস্তারিত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
যেভাবে মরদেহের সন্ধান মেলে
সেন্ট পিটার্সবার্গের উপকূলে মাছ ধরতে যাওয়া এক জেলের মাধ্যমে প্রথম এই লাশের সন্ধান পাওয়া যায়:
-
আকস্মিক আবিষ্কার: মাছ ধরার সময় ওই জেলের ছিপের সুতা একটি ঝোপে আটকে যায়। সেটি ছাড়াতে গিয়ে তিনি ঝোপের ভেতর তীব্র দুর্গন্ধ পান এবং একটি কালো প্লাস্টিকের ব্যাগ দেখতে পান।
-
পুলিশকে অবহিতকরণ: ব্যাগটি খোলার পর মানুষের দেহাবশেষ দেখে তিনি দ্রুত পুলিশকে খবর দেন।
শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া
মরদেহটি পচে যাওয়ায় প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবে পুলিশ বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করে:
-
পোশাকের মিল: নিখোঁজ হওয়ার সময় বৃষ্টির পরনে যে পোশাক ছিল, তার সঙ্গে উদ্ধারকৃত লাশের পোশাকের মিল পাওয়া যায়।
-
ডিএনএ ও ডেন্টাল রেকর্ড: চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডিএনএ পরীক্ষা এবং দাঁতের রেকর্ড (Dental Record) বিশ্লেষণ করা হয়।
তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য
পুলিশি তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হিসেবে হিশাম নামের এক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে:
-
পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড: তদন্তে জানা যায়, হিশাম অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে মরদেহ গুম করার চেষ্টা করেছিল।
-
ডিজিটাল ফরেনসিক: হিশাম তার ফোন থেকে সব তথ্য মুছে ফেললেও ফরেনসিক বিশ্লেষণে তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। দেখা গেছে, সে অনলাইনে অপরাধ করার এবং তা আড়াল করার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে সার্চ করেছিল।
-
মরদেহ গুম: পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, বৃষ্টির মরদেহ গাড়িতে করে উপকূলে এনে নির্জন ঝোপের মধ্যে ফেলে রাখা হয়েছিল। অভিযুক্ত হিশাম বর্তমানে কারাগারে রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রেক্ষাপট
গত ১৬ এপ্রিল নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি এবং তাঁর সহপাঠী জামিল আহমেদ লিমন নিখোঁজ হন। এর আগে ২৪ এপ্রিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। আজ (৪ মে) লিমনের মরদেহ দেশে পৌঁছালেও বৃষ্টির মরদেহ আনার প্রক্রিয়া এখনও চলছে। এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আর কোনো কারণ আছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।