ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ বর্তমান সংঘাতের সমাপ্তি টানতে তেহরানকে ‘বিজয় ঘোষণা’ করে শান্তি প্রক্রিয়ায় ফেরার পরামর্শ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিষয়ক সাময়িকী ফরেইন অ্যাফেয়ার্স-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে একটি নতুন রূপরেখা প্রস্তাব করেছেন।
জারিফের প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনার মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
-
হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক সমঝোতা: জারিফ প্রস্তাব করেছেন যে, ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। এর বিনিময়ে ইরান তার পারমাণবিক কার্যক্রমে নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা মেনে নেবে, তবে শর্ত থাকবে যে দেশটির ওপর থেকে যাবতীয় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে। যদিও ওয়াশিংটন আগে এমন প্রস্তাব নাকচ করেছিল, তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি নতুনভাবে বিবেচনার দাবি রাখে বলে তিনি মনে করেন।
-
অনাক্রমণ চুক্তি: তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি ‘পারস্পরিক আক্রমণ না করার’ চুক্তি স্বাক্ষরের ওপর তিনি জোর দিয়েছেন। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হবে ভবিষ্যতে একে অপরের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আইনি প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করা।
-
অর্থনৈতিক সহযোগিতা: দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার প্রস্তাব দিয়েছেন জারিফ। তার মতে, দুই দেশের অর্থনৈতিক মেলবন্ধন উভয় পক্ষকেই দীর্ঘমেয়াদে লাভবান করবে।
-
অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা: জারিফের বিশ্বাস, এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে ইরানের নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে। ফলে সরকার বাহ্যিক সংঘাতের বদলে দেশের অভ্যন্তরে উন্নয়নমূলক কাজ এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিতে অধিক মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পাবে।
পরিশেষে, জারিফ মনে করেন যে এই পথ অনুসরণ করলে ইরানের নাগরিকরা একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে।